২০১৫ সালের ১৫ই আগস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, যখন লালকেল্লার প্রাকার থেকে স্টার্টআপ ইন্ডিয়া কর্মসূচী ঘোষণা করেন, তখন সমগ্র জাতি এই কর্মসূচীকে সমর্থন করে। ২০১৬র ১৬ই জানুয়ারি এই প্রকল্প উদ্বোধনের চার বছরের মধ্যেই ভারত, ৫০,০০০ এরও বেশি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিশ্বের বৃহত্তম স্টার্টআপ দেশগুলির অন্যতম হয়ে উঠেছে। এই প্রকল্প শুধু যে নবীন শিল্পোদ্যোগীদের ভবিষ্যৎ গড়া ও বাণিজ্যিক সমস্যার মোকাবিলায় প্রস্তুত করছে তা নয়, অসংখ্য যুবক – যুবতীর কর্মসংস্থানও করছে। স্টার্টআপ পরিকল্পনা ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, “আমাদের ভারতকে সর্বশ্রেষ্ঠ স্টার্টআপ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ব্যাঙ্কগুলি নবীন শিল্পোদ্যোগীদের অল্প সুদে ঋণ দেবে। দেশের বিভিন্ন ব্যাঙ্কের ১.২৫ লক্ষ শাখা, সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্যে বিশেষ প্রকল্প চালু করবে। যে স্টার্টআপ প্রকল্পগুলিতে বেশি কর্মসংস্থান হবে, সেগুলিকে বেশি সাহায্য করা হবে।” এই ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার, উদ্ভাবনকে লালন করা এবং স্টার্টআপগুলির একটি শক্তিশালী ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশে সুদূর প্রসারী অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বড় মাত্রায় কর্মসংস্থান সুনিশ্চিত করতে চায়। স্টার্ট স্টার্ট-আপ-এর শ্রেণী বিভাজন যদি কোনও স্টার্ট-আপ বেসরকারি সংস্থা অথবা পার্টনারশিপ ফার্ম হিসেবে নথিভুক্ত অথবা লিমিটেড লায়াবিলিটি পার্টনারশিপ হিসেবে নথিভুক্ত হয়ে থাকে তাদের স্টার্ট-আপ সংস্থার নাম নথিভুক্তিকরণ বা স্বীকৃতিদানের দিন থেকে ১০ বছর মেয়াদ পর্যন্ত স্বীকৃতিদানের সময় থেকে অথবা নাম নথিভুক্তিকরণের দিন থেকে যে কোনও একটি অর্থবর্ষে লেনদেনের পরিমাণ যদি ১০০ কোটির বেশি না হয় যে সমস্ত স্টার্ট-আপ উদ্ভাবন, উন্নয়ন অথবা পণ্যসামগ্রীর মানোন্নয়ন বা প্রক্রিয়াকরণ অথবা পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত, এমনকি এই স্টার্ট-আপ সংস্থার বাণিজ্যিক মডেল যদি ব্যাপক সংখ্যায় কর্মসংস্থান সষ্টিৃ র ক্ষেত্রে অথবা সম্পদ তৈরির ক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় হয়ে থাকে তবেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যদি কোনও স্টার্ট-আপ সংস্থা একটি ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের বিভাজন অথবা পুনর্গঠনের মাধ্যমে গড়ে ওঠে, অবশ্য ইতিমধ্যেই যদি ওই ব্যবসায়িক কাজকর্মের স্বীকৃতি থেকে থাকে তাহলে সরকার নুতন গড়ে ওঠা সংস্থাটিকে স্টার্ট-আপ হিসেবে গণ্য করবে না এছাড়াও স্টার্ট-আপ ইন্ডিয়া পোর্টালে নথিভুক্ত সংস্থাগুলি সরাসরি সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে গণ্য হবে না। এ ধরনের সংস্থাগুলিকে সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের জন্য পৃথকভাবে ডিপিআইআইটি-র কাছে আবেদন করতে হবে। এর ফলে যে কোনও সংস্থাই মেধাসম্পদ পরিষেবা, সরকারি সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় ছাড়ের সুবিধার মতো একাধিক সুযোগ-সুবিধা পাবে স্টার্ট-আপ ইন্ডিয়া উদ্যোগের সূচনার পর থেকে একাধিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ভারতকে কর্মপ্রার্থী থেকে কর্মদাতা হিসেবে রূপান্তরের যে পরিকল্পনা করেছেন, তাতে এই উদ্যোগ বড় অবদান রাখবে। একটি স্বতন্ত্র স্টার্ট-আপ ইন্ডিয়া টিম এই কর্মসূচিগুলি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। এই দলটি শিল্প এবং অভ্যন্তরীণ শিল্প প্রসার দপ্তরকে (ডিপিআইআইটি) বিভিন্ন বিষয়ে সূচিত করে থাকে। এই কর্মসূচিগুলি দেশে স্টার্ট-আপ সংস্কৃতির প্রসারে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করছে। স্টার্ট-আপ ইন্ডিয়া উদ্যোগের মাধ্যমে স্টার্টআপগুলিকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে এবং বহু শিল্পোদ্যোগী ভারতে নিজেদের ব্যবসায় স্টার্ট-আপ ক্ষেত্রে সুযোগসুবিধাগুলি গ্রহণ করছেন। স্টার্ট-আপ ইন্ডিয়া কর্মসূচি ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে এক অনুকূল বাতাবরণ গড়ে তুলে স্টার্ট-আপ সংস্থাগুলির কাছে আশীর্বাদস্বরূপ হয়ে উঠেছে। দেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক স্টার্ট-আপ গঠিত হয়েছে। প্রধান যে ১০টি ক্ষেত্রে স্টার্ট-আপ গড়ে উঠেছে তার মধ্যে রয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও জীবনবিজ্ঞান, শিক্ষা, পেশাদারিত্ব এবং বাণিজ্যিক পরিষেবা, খাদ্য ও শীতল পানীয়, কৃষি, আর্থিক প্রযুক্তি বা ফিনটেক, গ্রিন টেকনলজি, টেকনলজি হার্ডওয়্যার তথা পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি। স্টার্ট-আপ ইন্ডিয়া পোর্টালের প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে এখনও পর্যন্ত ৪,৪৭,৩৪৩টি স্টার্ট-আপ সংস্থা স্টার্ট-আপ ইন্ডিয়া হাবে নথিভুক্ত হয়েছে। এই হাব এমন একটি ‘ওয়ান-স্টপ প্ল্যাটফর্ম’ যা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকেই এক অনুকূল বাতাবরণ গড়ে তুলে পারস্পরিক মতবিনিময়ের সুযোগ করে দেয়। পক্ষান্তরে স্টার্ট-আপ ক্ষেত্রের বিকাশের গতি ত্বরান্বিত হয়। ডিপিআইআইটি-র পক্ষ থেকে প্রায় ৩৮,৭৫৬টি স্টার্টআপকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সিডবি-র পক্ষ থেকে আরও ২৬৪টি স্টার্ট-আপকে তহবিল সহায়তা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ২২১টি স্টার্ট-আপ কর ছাড়ের সুবিধা পেয়েছে। দেশে উদ্ভাবন ও শিল্পোদ্যোগের ক্ষেত্রে এক সুবিস্তৃত কর্মসংস্কৃতির প্রসারে ‘অটল ইনোভেশন মিশন’ (এআইএম) কর্মসূচির সূচনা করেছে। স্টার্ট-আপ ইন্ডিয়া উদ্যোগের আওতায় সেলফ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্যালেন্ট ইউটিলাইজেশন (সেতু) উদ্যোগেরও সূচনা হয়েছে। স্বশংসায়ন : তিনটি পরিবেশমূলক এবং ছয়টি শ্রম আইনের মাধ্যমে স্বশংসায়ন এবং বিধি মেনে চলা কর ছাড় : পরপর তিন বছর আয়করে ছাড়ের সুবিধা এবং ন্যায্য বাজার মূল্য অনুযায়ী বেশি পরিমাণ মূলধন ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ছাড় ইজি ওয়ান্ডিং অফ কোম্পানি : ২০১৬-র ঋণ পরিশোধে অক্ষমতা ও দেউলিয়া বিধির আওতায় ৯০ দিনের সময়সীমা স্টার্ট-আপ সংক্রান্ত স্বত্ব আবেদন এবং মেধাসম্পদ অধিকার সুরক্ষা : স্বত্ব দাখিলের ক্ষেত্রে ফাস্ট-ট্র্যাক স্বত্ব আবেদন প্রক্রিয়ায় ৮০% ছাড় সরল সরকারি সংগ্রহ বিধি : আগাম আমানতের প্রয়োজনীয়তা ছাড়াই, আগাম লেনদেন ছাড়াই এবং অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সরকারি বরাত প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুবিধা সিডবি-র তহবিল যোগান : বিকল্প বিনিয়োগ তহবিলের মাধ্যমে স্টার্ট-আপগুলিতে বিনিয়োগের জন্য তহবিল সংস্থান স্বনিযুক্তি এবং মেধা সদ্ব্যবহার সংক্রান্ত ‘সেতু’ উদ্যোগের ফলে এমন একটি অনুকূল মঞ্চ গড়ে উঠবে যা বিশ্বমানের ইনোভেশন হাব, গ্র্যান্ড চ্যালেঞ্জ, স্টার্ট-আপ বিজনেস এবং অন্যান্য স্বনিযুক্তিমূলক কর্মকাণ্ডের প্রসারে সহায়তা করবে, বিশেষ করে প্রযুক্তি পরিচালিত বিভিন্ন ক্ষেত্রে। ‘অটল টিঙ্কারিং ল্যাব’ গড়ে তোলার জন্য এখনও পর্যন্ত সারা দেশে ১৪,৯১৬টি বিদ্যালয়কে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪,৮৭৫টি বিদ্যালয় ইতিমধ্যেই ১২ লক্ষ টাকার অনুদান সহায়তা পেয়েছে। ‘অটল ইনোভেশন মিশন’-এর পক্ষ থেকে সারা দেশের ৮৬টি ইনকিউবেটরকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের ইতিমধ্যেই আর্থিক সহায়তা দেওয়াহয়েছে। ৮৬টি ইনকিউবেটর বা পৃষ্ঠপোষক সংস্থা ২০১ কোটি টাকা সহায়তা পেয়েছে। গত তিন বছরে ১,২৫০টির বেশি স্টার্ট-আপ ‘অটল ইনকিউবেশন সেন্টার’-এর মাধ্যমে সাহায্য পেয়েছে। এর মধ্যে ৫০০টি স্টার্ট-আপই মহিলা পরিচালিত। স্টার্ট-আপ ইন্ডিয়া উদ্যোগের ফলে ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্টার্ট-আপ অনুকূল রাষ্ট্রে এবং তৃতীয় বৃহত্তম প্রযুক্তি সদ্ব্যবহারকারী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। সূত্র: নিউ ইন্ডিয়া সমাচার